April 8, 2026, 6:07 pm

সংবাদ শিরোনাম
নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করলেন প্রণব মুখার্জি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করলেন প্রণব মুখার্জি

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন উপমহাদেশের অবিসংবাদিত রাজনীতিক, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ডি-লিট ডিগ্রি, ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও প্রতিকৃতি তুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। প্রণব মুখার্জি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি অভিভূত। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষকে আপনার ডি লিট উপাধি দিয়েছেন। আমি নিজেকে সম্মানিত এবং মর্যাদাবান মনে করছি। চবি উপাচার্য বলেন, অহিংস আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মহাত্মা গান্ধি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে। মাস্টারদা সূর্য সেন ও প্রীতিলতার চট্টগ্রাম সব কিছুতে সবার আগে। রাজনীতি, উন্নয়ন ও সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। তার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি অধ্যায়ের সূচনা হলো। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাজনৈতিক হত্যার শিকার বাংলাদেশের জাতিন জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্য নেতাদের কথাও স্মরণ করেন প্রণব মুখার্জি। এসময় উপমহাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেন বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলে এসব হত্যাকা-ের কারণ জানতে গবেষণার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রণবের হাতে ডি-লিট ডিগ্রির স্মারক তুলে দেন উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভারতের প্রথম এই বাঙালি রাষ্ট্রপতি বলেন, এ উপমহাদেশে যাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল সে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর কেন বারবার হিংসাত্মক আক্রমণ হয়েছে তা জানতে হবে। তিনি ১৯৫৯ সালে শ্রীলঙ্কার সলোমন বন্দরনায়েক, ১৯৪৮ সালের ৩ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক, জুলফিকার আলী ভুট্টোর ফাঁসি ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানাসিঙ্গে প্রেমাদাসা নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। প্রণব বলেন, ভারতে যেমন স্বাধীনতার কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হারিয়েছিলাম, ১৯৪৮ সালের ৩ জানুয়ারি ঘাতকের বুলেট তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল। ঠিক তেমনি স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় একদল ঘাতকের নৃশংস আক্রমণে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আত্মত্যাগ করলেন। প্রায় জন্মলগ্নের মুহূর্তে জাতিকে জাতীয় নেতৃত্ব শূন্য করে দেওয়া হল। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নজির নেই। এ বিপুল রাজনৈতিক হত্যাকা-ের কারণ কী, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে তা আমাদের জানতে হবে। এসব হত্যাকা-ের কারণ জানতে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। গবেষণার মধ্য দিয়ে এ সত্য জানার আশা প্রকাশ করে প্রণব বলেন, রাস্তা যদি চিনি তাহলে চলা শক্ত হবেনা। প্রণব বলেন, গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা ভারতবর্ষে ও বাংলাদেশে দেখেছি। শ্রীলংকায় ইদানীং দেখছি। বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষ সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আর্থিক, সামাজিক প্রগতি বাস্তবায়ন করেছে। অথচ এ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বেশি হিংসাত্মক আক্রমণ হয়েছ, কারণ কি। বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোতে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি কেন? কোন সামাজিক প্রেক্ষাপটে সৈন্যরা বারবার ব্যারাক থেকে বের হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে প্রণব বলেন, আমি কৃতজ্ঞ, অভিভূত। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষকে ডি-লিট উপাধি দিয়ে আপনারা আমাকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি কামনা করে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় একসময় তক্ষশীলা, নালন্দার মতো জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হবে। এখানে বিশ্বের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা একত্র হবেন জ্ঞান অর্জনের জন্য। আমি বিশ্বাস করি আপনারা তা পারবেন। কারণ আপনাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল বিশ্বমানবতার মুক্তি। এ মুক্তির কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেছিলেন। সে মুক্তির জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক প্রাণ দিয়েছিলেন। আশা করি এ প্রাঙ্গণ সংকীর্ণ হবে না। এখানে কোনো আগল থাকবে না। এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছান প্রণব। বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মস্থান রাউজানে যান তিনি। রাউজানের নোয়াপাড়ায় সূর্যসেনের পৈত্রিক ভিটায় যাওয়ার পর রাউজান কলেজের কাছে মুন্সির ঘাঁটা এলাকায় সূর্যসেনের ভাস্কর্যে সম্মান জানানোর কথা রয়েছে তার। বিকালে রাউজান থেকে নগরীতে ফিরে রাতে র‌্যাডিসন হোটেলে ভারতীয় দূতাবাসের সংবর্ধঘনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রণব। পাঁচদিনের ব্যক্তিগত সফরে রোববার ঢাকায় পৌঁছান প্রণব মুখোপাধ্যায়। আজ বুধবার তাঁর দেশে ফেরার কথা।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর